422>||--লেখনী বা পেন্না::---||



422>||--লেখনী বা পেন্না::---||

( লেখনী মানে যার সাহায্যে লেখা হয়
অর্থাৎ কলম। ইংরেজিতে বলাহয় পেন।
পেন (pen) শব্দ এসেছে লেটিন শব্দ পেন্না (penna) থেকে,

যার মানে হল পাখির পালক। এক কালে পালকের কলম দিয়েই কাগজে লেখা হত।
আজ প্রযুক্তির দৌলতে এই কলম বিলুপ্তির পথে।)

সেই লেখার কথাই যদি বল,
লিখি কি নিজের ইচ্ছায়!
মস্তিস্ক লিখে চলে আপন মনে।
লেখা তো এক প্রসব যন্ত্রণার লাগভ মাত্র,
মনের সাথে প্রকৃতির----
বা আসে পাশে ঘটেজাওয়া
ঘটনার সংঙ্গে মৈথুন,রমণে--
মস্তিষ্কে তৈরি হয় প্রেগন্যান্সি,
তারপরে সময়ের অপেক্ষা।
সময় হলেই সন্তান রূপে লেখা গুলি,
আত্ম প্রকাশ করে লেখনীর মাধ্যমে।
শোনিত প্রবাহের মতন বেরিয়ে আসে কালি,
কাগজে খস খস করে লিখে চলে নিবগুলি।
এতে আমার কেরামতি কোথায়?
মন আর মস্তিষ্কের কেরামতি সেথায়।
আর রাতের পর রাত জেগে কলমগুলি,
হাপাতে থাকে দিনে,মাঝে মাঝে কাটা কুটি,
আর লিখে চলে নুতন কিছু বুলি।
লেখা হলে সুন্দর,
লেখক কুড়ায় হাততালি,
লেখকের বাড়ে যশ।
বেচারা কলম---
যার ঘাড় ধরে চললো কেরামতি,
রাত ভর জেগে---
সকাল থেকে বুক পকেটে ঘুরে--
কত কিজে লিখতে হোল,
কলম আর লেখকের মাঝে থাকেনা সাক্ষি,
কাগজ বাড়ে বাড়ে পাল্টায়।
তবুও কলমের গুনগান করেনা কেউ।
সকল স্থানেই লেখকের নাম ।

বুক পকেটে থেকে দেখি কত কি,
গায়ক গাইছেন কবির লেখা গান।
আমি কবির বুক পকেটে থেকে----
শুনলাম গান,
সকলে দিচ্ছে তালি,
তারপরে দিল মালা কবির গলে।
কেউ একটুও ভাবলনা আমাকে।
পকেটে বসে দেখলাম ,
আমার মতই দুঃখ তবলার,
গায়ক গাইছেন,
তবলচি বাজাচ্ছেন তবলা ডুগি।
গায়ক গান গেয়ে চলেছেন,
তবলচি মেরেচলেছেন চাটি,
বেচারা তবলা ডুগির চিৎকার,
তবলচির বাড়ে অহঙ্কার।
তাই চলতে থাকে চাটির পর চাটি।
যেন কত না কেরামতি,
বেচারা তবলা ডুগির লাগে দাঁত কপাটি।
তবলচি ভাবেনকি এই কথাটি।
তবলচি শুধু মারতে জানে চাটি।
তাই বলি আমার মতনি তবলার দশা,
কবি, গায়ক, তবলচি সকলেই বাদশা।
এদের দেখে দেখে আমাদে বাড়ে হতাশা।
আমরা প্রতিবাদ করিনা,
তাইত কেহই আমাদের চনেনা।
আমরা যদি করি হরতাল,
কিহবে ওই কবি, গায়ক,তবলচির হাল।
ওদের ঘরে চরবেনা হাড়ি,
আমরা গোটালে পাত্তারি।
দুঃখ শুদু এইটুকু,
আমাদের বুঝলনা কেউ একটুকু।
আজকাল ইন্টারনেটের যুগে,
আমরা অবহেলিত পরে আছি কোন।
আগে আমাদের গলা টিপে চলত লেখা,
আজকাল ইন্টারনেট, কিবোর্ডে চলে লেখা।
আজ আমরা কলম হতে চলেছে ইতিহাস--- -------

সেই পাঁচ হাজারের বৎসরের কথা।
তখন লেখা হত গাছের পাতায় বা গাছের ছালে।
তখন নলখাগড়া, শর বা বেণু বাঁশের কঞ্চি অথবা ফাঁপা খণ্ড।
এসব খণ্ড কলমের মতো করে কেটে সূচালো করে তা কালির মধ্যে চুবিয়ে লেখা হতো।
কালিও ছিল গাছের কষ
ও নানা রকম প্রাকৃতিক উপাদানে প্রস্তুত।
তার পরে এল পাখির পালক। রাজহাঁসের পালক ছিল সে যুগে কলম তৈরির প্রধান উপকরণ।
পালককে শক্ত করে তার মাথা সূক্ষ্মভাবে সূচালো করা হতো যাতে লিখতে আরাম হয়।
সেই মধ্যযুগে কাগজের আবিস্কারের পরে পালকের কলম দিয়ে লিখা প্রচলিত হয়।
প্রাচীন কালের অনেক কলমই আজ শুধুমাত্র জাদুঘরেই দেখা যায়।
কিন্তু যাই বলনাকেন কলমের ইতিহাস এক সুদীর্ঘ ইতিহাস।
যে ইতিহাস বলে বা লিখে শেষ করা ভীষণ কঠিন।
তথাপি আজকের অতি আধুনিক কলমেও
রয়েগেছে কিছু ত্রুটি।
অতি আধুনিক কলম দিয়ে লেখা চলে বেশ।
কিন্তু যদি চাই চিৎ হয়ে শুয়ে কিছু লিখতে,
বা কলমের নিব উপরের দিগে করে কিছু
লিখতে তা কিন্তু পারবনা অতি আধুনিক কলমেও।
তাই বলি কলমে এখনো রয়েগেছে ত্রুটি।
এই ত্রুটিনিয়েই কলম বিলুপ্তির পথে।
আগে কলমের কত ছিল আত্মশ্লাঘা,দর্প,
অথবা ছিল বিশেষ গর্ব।
আজ কলমের সকল গর্ব,
মনে হয় হতে চলেছে খর্ব।
||--anrc------10/04/2018::------------||
||=======================||

Comments

Popular posts from this blog

497>||--আমের কথা--||---(1---4)

495>||--পান্তার ঘুম--||

496>||-বঙ্গের প্রকৃতি-||