427>||---অভ্যুদয়---|| *D
427>||---অভ্যুদয়---||
সেদিন মনছিল শান্ত,
মধ্য রাত্রি প্রায় অতিক্রান্ত।
শান্ত ছিল চারিদিক,
পরেশনাথ পাহাড়ের পূর্বদিক।
বসে একা নিরিবিলি স্থানের আড়ালে।
উদাস মনে,
এদিকটায় মানুষ জন কেউ আসে না,
একটু বেশি জঙ্গল তাই প্রবেশ মানা।
1981র জানুয়ারি মাস,
আর বাকি মাত্র এক মাস।
শুরু হবেএক ভিন্ন জীবনের আশ্বাস,
এই ছন্নছাড়া জীবনে সংসারের ফাঁস।
ধরে রাখতে প্রকৃতির শোভা কাগজে,
বিকাল থেকেই নিরালা খোঁজার তাগিদে।
পরেশনাথ পাহাড়ে শান্ত মনে দাঁড়িয়ে,
উপভোগ করছিলাম নির্মল প্রকৃতিরে।
মনভরে দেখছিলাম মেঘ মুক্ত আকাশ,
কিঅপরূপ সুন্দর এই নির্মল আকাশ।
ভাবতে ভাবতেই সন্ধ্যা হল পার,
সহসা নেমে এল অন্ধকার।
যেন মসৃণ কালো পর্দায় ঢেকে গেল পাহাড়,
একটু আগেই অস্ত গেছে চতুর্থীর চাঁদ।
শান্ত সুন্দর পরিবেশ এমন,
ছেড়ে যেতে চাইলনা মন।
হাওয়ায় একটু শীতের স্পর্শ,
শীতল বাতাসে আরামের স্পর্শ।
চোখ দুটি প্রায় বন্ধ হয়ে আসছিল,
মনটাও কেমন যেন আচ্ছন্ন লাগছিল।
চতুর্থীর মধ্য রাত্রের অপূর্ব নির্মল আকাশ,
কেমন যেন মায়াময় অন্ধকারের প্রকাশ।
কবিত নই যে এমন সৌন্দর্যের করবো বর্ণন,
তথাপি আজ লাগছে ভাল সেই চিন্তন।
হঠাৎএক গম্ভীর আওয়াজ,পেছন থেকে,
ফিরে দেখিএক দিগম্বর জৈন সাধু কে।
"বেটা ওয়াক্ত মাৎ গমা ঝাঁক অন্দর"
বলেই গেলেন এগিয়ে নিজের গন্তব্যের দিকে।
এ কেমন নির্দেশ,কেন এমন আদেশ।
বুঝে উঠবার আগেই--
এক আচ্ছন্নতা মনকে করল অবশ।
কিছু না বুঝে,চোখ দুটি বুঝে রইলাম বসে।
চিন্তা শক্তি গুলি যেন হয়ে গেল সুপ্ত,
ধীরে নিজের সকল সত্তা হয়ে গেল লুপ্ত।
এই অন্ধকার রাত্রে,শ্বাপদসংকুল অরণ্যে,
কেমন যেন নিজেই গেলাম হারিয়ে।
কোথায় চলেছি আমি কিসের নেশাতে,
এক সুবিশাল জলরাশি ঘিরিছে আমাকে।
আমিও ভেসে চলেছি ওই সমুদ্রের জলে,
বিশ্বচরাচর নিমজ্জিত ওই মহা সমুদ্রে।
চন্দ্র,সূর্য সহ ব্রহ্মান্ড ডোবে আর ভাসে,
চারিদিক গভীর অন্ধকার ওই মহা সমুদ্রে।
আমি নিজেও যেন ভাসছি অম্বু বিম্বতে,
স্পন্দন শান্ত শীতল মৃদু মন্দ বাতাসে।
অকস্মাৎ অনুভব হল এক আলোর বিন্দু,
সহসা সমাহিত হল আমার মধ্যে।
সামান্য একটু আলোড়ন শরীরের মধ্যে,
এক উত্তপ্ত বায়ু বইছে মেরুদণ্ডের মধ্যে।
সুবিশাল জল রাশি চতুর্দিকে,
স্নিগ্ধ আলো উদ্ভাসিত সন্মুখে।
নিজের অস্তিত্ব বিলীন ওই সমুদ্রের জলে,
আকাশ,বাতাস,ত্রিভুবন নিমজ্জিত জলে।
স্নিগ্ধ শান্ত সমুদ্রের ওই বিশাল জল রাশি,
ব্রহ্মান্ড গ্রহ,নক্ষত্র,তারা রাশি রাশি।
সকলি নিমজ্জিত ওই সমুদ্রের জলে,
ব্রহ্মান্ড যেনএকবার ভাসে আর ডোবে।
যেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ শান্ত মন,
জানিনা কি হোল কেন হচ্ছে এমন।
জনমানব শূন্য, গভীর অন্ধকার,
যেন গভীর গহ্বর নাই কোন পার।
আছে কেবল সামান্য একটু অনুভূতি,
মেরুদণ্ডের মাঝে কেমন এক অনুভূতি।
মনে হল এক সূক্ষ্ম বিদ্যুৎ তরঙ্গ বইছে,
মেরুদণ্ডের মধ্যে বয়ে চলেছে।
আর সকল অঙ্গ,
শরীর থেকে যেন বিচ্ছিন্ন ছিন্ন ভিন্ন।
সহসা মূলাধার চক্রে শুরুহয় কম্পন,
কি জানি কেন শুরু এমন কম্পন।
আমি যেন চলেছি ভেসে মহা দমুদ্রে,
একোন শক্তি বয়ে নিয়ে চলেছে আমাকে।
ওই অফুরন্ত জল মহা সমুদ্র মাঝে,
যেন সকল সত্বাই ডুবে গেছে।
কখন যে হয়ে গেল ভোর দিগন্তে,
পাখির কলরব বন জঙ্গলে।
সহসা মুখরিত পাহাড় বন জঙ্গল,
পূবাকাশে যেন ছড়িয়ে গেল লাল রং।
মনে হল পূবাকাশে নুতন সূর্য উদিত,
সুন্দর ফুলের গন্ধে মন আচ্ছাদিত।
এমন অপূর্ব বর্ণনাতীত অনুভূতি, দর্শন,
ভাষা জানানাই কিকরে করি বর্নন।
ক্ষুদ্র আমি মূর্খ অতি নাই সাধারণ জ্ঞান,
পরেশনাথ পাহার জঙ্গলে হল বিশেষ জ্ঞান।
শ্বাপদসংকুল জঙ্গলে কাটল একটি রাত,
সকালে নীচে এসে জানলাম সাক্ষাৎ।
রাত ভর নেকড়ে গুলো করেছে উৎপাত,
তছ নছ করে গেছে যেন ভয়ঙ্কর সাক্ষাৎ।
সন্ধ্যার পর পাহাড়ে যাওয়া নিষেধ,
বন দপ্তরের এমনি নির্দেশ।
সেই নির্দেশ করেছিলাম উপেক্ষা,
মনে ছিলনা কোন কিছুর অপেক্ষা।
করিনি কোন কিছুর প্রতীক্ষা,
তথাপি অপূর্ব সেই রাতের অভিজ্ঞতা।
জীবন অভ্যুদয়ের প্রশস্ত নির্দেশিকা।
||---anrc-------22/04/2018---------||
||=======================||
Comments
Post a Comment