441>||--পোড়াগঞ্জের হাট--||*D
441>||--পোড়াগঞ্জের হাট--||
আমি নই কবি নই নবী,
আমি লিখতে ভালবাসি।
কারুর ভাল লাগলে,
Fb w'app তে জানতে পারি।
তবে যা মনে হয় বা দেখি তাই লিখি,
জানিনা ছন্দ জানিনা কাব্য কলা।
ভালো নাও লাগতে পারে আমার বলা।
সেদিন গিয়ে ছিলাম পোড়াগঞ্জের হাটে,
সকাল থেকেই বসেছে হাট।
টাটকা সাগ সবজির চলছে বেচা কেনা।
হরেক রকম খেলনা পুতুল,ঝিল্লি মিঠাই,
সপ্তাহে দুইদিন হাটে জড়ো গ্রামের সবাই।
খোশ গল্প হাসি ঠাট্টা,
বিড়ির টানে মজেছে সবাই।
অনেকেই দেখি নেশায় মত্ত,
বাংলা চোলাইর নাই অন্ত।
সকল মানুষের খোশ মেজাজ,
বেসাতীর বাড়ছে আওয়াজ।
বাচ্ছা বুড়ো সকলে বেজায় খুশি,
দিন ভর চলছে বেচা কেনা যার যেমন খুশি।
যেখানে এখনো গাড়োয়ান গরুর গাড়ী হাকে।
আসছেন মোড়ল মশাই গরুর গাড়ী হেকে,
গরু চলেছে ঘাড়ে নিয়ে মোড়লের বোঝা।
বিশাল বপু নিয়ে আরামে বসে গদিতে,
একজন পাখা নাড়ছেন অতি সাবধানেতে।
গাড়োয়ান হাকছে গাড়ী চাবুক দিয়ে পিটিয়ে,
ছাড়ছেন হাক ডাক গরুর লেজ মুড়িয়ে।
গরু দুটি ছুটছে গরমে হাঁপিয়ে,
গরুর গাড়ি ছুটছে রাস্থা কাঁপিয়ে।
লোহার চাকা দুটি ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজে,
সকলেই ভীত সন্ত্রস্থ মোড়লের ভয়েতে।
গাড়োয়ানের হাক ডাক চাবুকের ঘাঁ।
মোড়ল আরামে গদিতে,এলিয়ে দিয়ে গা।
পাখা নাড়া চলছে অতি সন্তর্পণে,
যেন ব্যাঘাত না ঘটে মোড়লের আরামে।
ঠিক সময়ে মোড়ল পৌঁছন হাটেতে।
মোড়ল কে দেখেই পেয়াদারা জোটে,
মোড়লের হাতে দিয়ে টাকার থলি,
পেয়াদারা একে একে সেলাম ঠোকে।
হাটে বসলেই দিতে হবে মোড়লকে বাট্টা,
বিক্রি হোক বা নাইহোক কম হবেনা বাট্টা।
কেউ নাদিলে বাট্টা খাবে পেয়াদার গাট্টা,
উঠে যেতে হবে দিয়ে খেসারতের বাট্টা।
বেচা কেনা চাষীর ভাগ্য,
মোড়লের চাই বাট্টা আর উৎকোচ,
হাটের সেরা সবজি, মাছ, মাংস ফ্রি।
এমনি করেই চলে পোড়াগঞ্জের বিক্রি।
চাষীর ঝরে ঘাম,মোড়লের বাড়ে ঠাট,
চাষীদের জোটেনা এক বেলার ভাত।
কেউ বলে কাতর স্বরে হয়নি বউনি এখনো,
বাট্টা ঠিক দেব ফাঁকি দেইনিত কখন।
পেয়াদার করে হম্বি-তম্বি ওজর ছল,
তোর জন্য কি বসে থাকবে মোড়ল!
বউনি হয়নি ত নিতে পারিস কর্জ,
তবে হ্যাঁ বিশ টাকায় কিন্তু ত্রিশ টাকাধার্য।
বাবু 100টাকার বেসাত আমার,
বিশ টাকা মুনাফা হবে কি আমার।
তবু বলছেন ত্রিশ টাকা হবে কর্জ,
বিশ টাকায় ত্রিশ টাকা এটা কি ন্যায্য?
এতো বুঝিনা,আমার টাকায় করবে ব্যবসা,
আমাকে ও দিতে হবে লাভের অংশ।
বাবু, আজ এনেছি 100 টাকার শাক,
লাভ হবে হয়তো 10 কি 15 টাকা মাত্র।
এতো বুঝিনা, বসলেই দিতে হবে বাট্টা,
নচেৎ দূর করে দেব দিয়ে গলা ধাক্কা।
হাট তো নয় যেন নর্দমার দুই পার,
একটু আগেই হয়েছে গেছে একটু বৃষ্টি।
এখনো বইছে জল মাঝ পথ দিয়ে,
সেই কাদা জলের মধ্যেই চলছে হাট।
নালার দুই ধরে আছে ছোট ছোট চালা,
সেই চালাই এখন হয়েছে বেজায় জ্বালা।
বৃস্টি থেমেছে কখন চালায় ঝরছে জল,
চালার খড় গুল পঁচে গিয়ে ঝরছে জল।
এমনি করেই চলে গঞ্জের হাট আর কি,
সপ্তাহে দুই দিন হাট ছাড়া গতি কি।
দুটি গ্রামের মাঝে মাত্র এই একটি হাট,
অন্য হাটে যেতে হলে তিন ঘন্টার পথ।
গ্রাম মাত্রেই থাকে গঞ্জ বা হাট জরুরি,
হাটে, বাজারে, মোড়লের বাট্টাও জরুরি।
গঞ্জের ধার কর্জ চাতুড়ির হদ্দ,
দিনে দিনে বাড়ে সুধ কতকি ফর্দ।
সুদের বোঝা বইতে গরিবের যায় প্রাণ,
সুদ না দিলেই নির্ঘাত ধরবে গর্দান।
ধার নিলে একবার সুদ চলে আজীবন,
সুদের জ্বালাতে কত গরিব বেছে নেয় মরন।
মরলেও পায়না রেহাই সুদ খোরের হাতে,
বংশানুক্রমে সুদের বোঝা চলতেই থাকে।
সুদের মরন ফাঁদ চলে চিরকাল,
কর্জ ছাড়া গরিব চাষীর চলেনা হাল।
পোড়াগঞ্জের হাট দর্শন মজাদার,
সুন্দর তাজাশাক সবজির কারবার।
নমস্কার,
গ্রহনকরুন আমার নমস্কার।
||------anrc-----02/05/2018---------------||
||==========================||
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--2018--】
【-TIME L=】
========================
আমি নই কবি নই নবী,
আমি লিখতে ভালবাসি।
কারুর ভাল লাগলে,
Fb w'app তে জানতে পারি।
তবে যা মনে হয় বা দেখি তাই লিখি,
জানিনা ছন্দ জানিনা কাব্য কলা।
ভালো নাও লাগতে পারে আমার বলা।
সেদিন গিয়ে ছিলাম পোড়াগঞ্জের হাটে,
সকাল থেকেই বসেছে হাট।
টাটকা সাগ সবজির চলছে বেচা কেনা।
হরেক রকম খেলনা পুতুল,ঝিল্লি মিঠাই,
সপ্তাহে দুইদিন হাটে জড়ো গ্রামের সবাই।
খোশ গল্প হাসি ঠাট্টা,
বিড়ির টানে মজেছে সবাই।
অনেকেই দেখি নেশায় মত্ত,
বাংলা চোলাইর নাই অন্ত।
সকল মানুষের খোশ মেজাজ,
বেসাতীর বাড়ছে আওয়াজ।
বাচ্ছা বুড়ো সকলে বেজায় খুশি,
দিন ভর চলছে বেচা কেনা যার যেমন খুশি।
যেখানে এখনো গাড়োয়ান গরুর গাড়ী হাকে।
আসছেন মোড়ল মশাই গরুর গাড়ী হেকে,
গরু চলেছে ঘাড়ে নিয়ে মোড়লের বোঝা।
বিশাল বপু নিয়ে আরামে বসে গদিতে,
একজন পাখা নাড়ছেন অতি সাবধানেতে।
গাড়োয়ান হাকছে গাড়ী চাবুক দিয়ে পিটিয়ে,
ছাড়ছেন হাক ডাক গরুর লেজ মুড়িয়ে।
গরু দুটি ছুটছে গরমে হাঁপিয়ে,
গরুর গাড়ি ছুটছে রাস্থা কাঁপিয়ে।
লোহার চাকা দুটি ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজে,
সকলেই ভীত সন্ত্রস্থ মোড়লের ভয়েতে।
গাড়োয়ানের হাক ডাক চাবুকের ঘাঁ।
মোড়ল আরামে গদিতে,এলিয়ে দিয়ে গা।
পাখা নাড়া চলছে অতি সন্তর্পণে,
যেন ব্যাঘাত না ঘটে মোড়লের আরামে।
ঠিক সময়ে মোড়ল পৌঁছন হাটেতে।
মোড়ল কে দেখেই পেয়াদারা জোটে,
মোড়লের হাতে দিয়ে টাকার থলি,
পেয়াদারা একে একে সেলাম ঠোকে।
হাটে বসলেই দিতে হবে মোড়লকে বাট্টা,
বিক্রি হোক বা নাইহোক কম হবেনা বাট্টা।
কেউ নাদিলে বাট্টা খাবে পেয়াদার গাট্টা,
উঠে যেতে হবে দিয়ে খেসারতের বাট্টা।
বেচা কেনা চাষীর ভাগ্য,
মোড়লের চাই বাট্টা আর উৎকোচ,
হাটের সেরা সবজি, মাছ, মাংস ফ্রি।
এমনি করেই চলে পোড়াগঞ্জের বিক্রি।
চাষীর ঝরে ঘাম,মোড়লের বাড়ে ঠাট,
চাষীদের জোটেনা এক বেলার ভাত।
কেউ বলে কাতর স্বরে হয়নি বউনি এখনো,
বাট্টা ঠিক দেব ফাঁকি দেইনিত কখন।
পেয়াদার করে হম্বি-তম্বি ওজর ছল,
তোর জন্য কি বসে থাকবে মোড়ল!
বউনি হয়নি ত নিতে পারিস কর্জ,
তবে হ্যাঁ বিশ টাকায় কিন্তু ত্রিশ টাকাধার্য।
বাবু 100টাকার বেসাত আমার,
বিশ টাকা মুনাফা হবে কি আমার।
তবু বলছেন ত্রিশ টাকা হবে কর্জ,
বিশ টাকায় ত্রিশ টাকা এটা কি ন্যায্য?
এতো বুঝিনা,আমার টাকায় করবে ব্যবসা,
আমাকে ও দিতে হবে লাভের অংশ।
বাবু, আজ এনেছি 100 টাকার শাক,
লাভ হবে হয়তো 10 কি 15 টাকা মাত্র।
এতো বুঝিনা, বসলেই দিতে হবে বাট্টা,
নচেৎ দূর করে দেব দিয়ে গলা ধাক্কা।
হাট তো নয় যেন নর্দমার দুই পার,
একটু আগেই হয়েছে গেছে একটু বৃষ্টি।
এখনো বইছে জল মাঝ পথ দিয়ে,
সেই কাদা জলের মধ্যেই চলছে হাট।
নালার দুই ধরে আছে ছোট ছোট চালা,
সেই চালাই এখন হয়েছে বেজায় জ্বালা।
বৃস্টি থেমেছে কখন চালায় ঝরছে জল,
চালার খড় গুল পঁচে গিয়ে ঝরছে জল।
এমনি করেই চলে গঞ্জের হাট আর কি,
সপ্তাহে দুই দিন হাট ছাড়া গতি কি।
দুটি গ্রামের মাঝে মাত্র এই একটি হাট,
অন্য হাটে যেতে হলে তিন ঘন্টার পথ।
গ্রাম মাত্রেই থাকে গঞ্জ বা হাট জরুরি,
হাটে, বাজারে, মোড়লের বাট্টাও জরুরি।
গঞ্জের ধার কর্জ চাতুড়ির হদ্দ,
দিনে দিনে বাড়ে সুধ কতকি ফর্দ।
সুদের বোঝা বইতে গরিবের যায় প্রাণ,
সুদ না দিলেই নির্ঘাত ধরবে গর্দান।
ধার নিলে একবার সুদ চলে আজীবন,
সুদের জ্বালাতে কত গরিব বেছে নেয় মরন।
মরলেও পায়না রেহাই সুদ খোরের হাতে,
বংশানুক্রমে সুদের বোঝা চলতেই থাকে।
সুদের মরন ফাঁদ চলে চিরকাল,
কর্জ ছাড়া গরিব চাষীর চলেনা হাল।
পোড়াগঞ্জের হাট দর্শন মজাদার,
সুন্দর তাজাশাক সবজির কারবার।
নমস্কার,
গ্রহনকরুন আমার নমস্কার।
||------anrc-----02/05/2018---------------||
||==========================||
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--2018--】
【-TIME L=】
========================
Comments
Post a Comment