443>||- খেয়ে নিন বিরিয়ানি-|

443>||--*||- খেয়ে নিন বিরিয়ানি-||*

খেতে চান কি বিরিয়ানি,
মুখে মেখে বসুন মুলতানি।
আতর হবে সুলতানি,
তবেই মজার বিরিয়ানি।

বেশি খেলে ভয় নাই,
বিরিয়ানিতে নাই কাই।
যতো ইচ্ছা ততো খাই,
পেট করুক ঢাই ঢাই।

বিরিয়ানির গন্ধ,
সকলের পছন্দ।
গন্ধটি নয় মন্দ,
হয় যদি পছন্দ।

অবাক করা বিরিয়ানি,
আনন্দে খেতেন রাজ রানী।
স্বাদের রাজা বিরিয়ানি,
শাজাহানের আমদানি।

শাজাহানের খাসনামা জানি,
জানতেন বিরিয়ানির কার দানি।
101 রকম বিরিয়ানির হয় বিক্রি,
স্বাদেও গন্ধে রকমারি হেরা ফেরি।

বিরিয়ানি খেয়ে করলে বমন,
চোদ্দ পুরুষের হবে নরকে গমন।
বিরিয়ানি খেত করলে ঘেন্না,
জীবনে  ধরতে পারবেনা পেন্না।

জানাউচিত বিরিয়ানির ইতিহাস,
ব্যাপারটাকে করবেন না উপহাস,
নাসির উদ্দিন খিলজি,
খেতেন বিরিয়ানি আর কলজি।

পড়েনিও বিরিয়ানির উইকিপিডিয়ে,
বিরিয়ানি হয় তৈরি কি কি দিয়ে।
শুদ্ধ পশুর লালচে ঘিলুদিয়ে,
আজব বিরিয়ানি হয় জমিয়ে।

ইতিহাসের দিলাম একটু ছোয়া,
পুরো জানতে লাগবে বৎসরসোয়া।
ভালো বিরিয়ানিতে ঠোঁটের ছোয়া,
আগে মুখে দিয়ে তারপর ছোয়া।

অলীক স্বপ্নের মতন বিরিয়ানি,
হোটেলের বিভিন্ন কারদানি।
বাঙালির প্রিয় রাইস পোলাউ,
আজকাল বিরিয়ানি আর চাউ।

আমাদের ঘি ভাত,আর সাদাভাত,
বিরিয়ানির অশ্লীল গুঁতোয় কুপকাত।
আমরা  চর্ব্যচোষ্য লেহ্যপেয় বদলাতে,
শুরুকরেছি বিরিয়ানি  হাঁপলাতে।

দিকে দিকে বাড়ন্ত বিরিয়ানি ভান্ডার,
আমরা পিঠে মোটা চামড়ার গন্ডার।
লজ্জা ঘেন্না ভয় তিন থাকতে নয় যেমন,
সকল দিয়ে বিসর্জন বিয়ানির আপ্যায়ন।

ওরে অর্বাচীন বিরিয়ানির আছে কি,
একটু রং আর মশলার কারি কুরি।
আমাদের ঘি ভাত,ফ্রাইড রাইস এর সাথে,
উঠে পড়ে লেগেছে বিরিয়ানি উঠতে জাতে।

বাঙালির লোভে বাড়ে পেট দ্বিগুন,
আসল ছেড়ে রং আর মশলায় মন।
লক লক করে জিভ বিরিয়ানি দেখে,
সঙ্গে কষা পেলে কে না চেখে দেখে।

বিরিয়ানির আগ্রাসন করেছে গ্রাস,
দেরাদুন,বাসমতির ফ্রাইড রাইস,
অনুষ্ঠান গুলি বিয়ে কিম্বা মুখে ভাত,
বিরিয়ানি আর কষা করছে বাজিমাত।

বাঙালির ভবিষ্যৎ বিরিয়ানির পাতে,
বিরিয়ানি আজকাল কুলিনের জাতে।
ননভেজে কষা, আর ভেজে রায়তা,
বাড়ন্ত দিন দিন বিরিয়ানির বায়তা।

[ বিঃদ্রঃ::--( বায়ত+ আ )=বায়তা
বায়ত=বাজাচ্ছে ,ঘোষণা করেছে,
আ। =আনন্দ করছে।
অর্থাৎ ঘোষণা ও আনন্দ করছে। ]

||---anrc----06/05/2018::----------||
||========================||


আমার বিরিয়ানি নিয়ে লেখার উত্তরে
প্রদীপ চন্দ্র রায়ের মতামত::--

ওনার ভিয়েতনাম ভ্রমনের সময়।;:---

সত্যি কথা বলব? আমি বহু জায়গায় বহু বিখ্যাত বিরিয়ানী চেখেছি, কিন্তু জিনিষটাকে ভালবাসতে পারলাম না। আমার কাছে পোলাও + গা-মাখা পাঁঠার মাংস অতুলনীয়।
----------------------
আমিও ওনার মতে একমত
কারন :-----
আমার ধারনা দুনিয়ায় যত প্রকার
খাদ্য আছে বিরিয়ানি সবথেকে সস্তা
খাবার।
কারন এটা মুঘলদের খাবার
ওরা বীফ খেতে ভালবাসে,
ভারতে বীফ সস্তা,আলুও সস্তা,
একটা ডিম, তাও সস্তা,
বড় নামি হোটেলে খেলে তাঁরা ওই রং টুকু
একটু ভাল দেবে, ফালতু হোটেলে তো ওই কাপড়ে দেবার রং দেবে।
আর ঘি সামান্য মশলা বানাতে তেলের উপরে
একটু ঘি ছড়িয়ে দেওয়া।
প্রকৃত জাফরান কে দেয় বলুন।

উৎপত্তিস্থল:দক্ষিণ এশিয়া,
যেমন:--আফগানিস্তান,বাংলাদেশ,মায়ানমার,
পাকিস্তান,ভারত,ইন্দোনেশিয়া,শ্রীলঙ্কা,ইরান,ইরাক,কুয়েত,সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া,
প্রভৃতি দেশ,
সেই কারণে ওই বিরিয়ানির থেকে আমাদের পোলাউ, ফ্রাইড রাইস হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ।
তবে হ্যাঁ বিভিন্ন পাখির মাংসের
বিরিয়সনি রকটু দামি হয় ।
যেমন  টার্কি বিরিয়ানি,
আর কিছু দামি মাছের বিরিয়ানি।
তবে সাধারণ বিরিয়ানি সবথেকে সস্তা ননভেজে খাবার।
যার কিছুই জোটেনা সেই বিরিয়ানি খায়।
হোটেলে গিয়ে একপিস মাংস এবং ভাত
চাইতে লজ্জা করবে।
একপিস মাংস হয়তো কেউ দেবেইনা।
সেখানে একপ্লেট সাধারণ বিরিয়ানি
ডাটের মাথায় চাওয়া যায়।
এবং সস্তা ও হয়।
বিরিয়ানির মতন ননভেজে সস্তা খাবার আর নাই।

আমি বিরিয়ানিকে এক
অপসংস্কৃতির মতন মনেকরি।
কি আছে বিরিয়ানিতে।
রং ও গন্ধ।
ওটা জেল খানার খাবার।
--------------------------

একসময় আমার ভীষণ লোভ ছিল বিরিয়ানিতে।
সেই কারণেই বিরিয়ানির একটু খোঁজ খবর
করে জানতে পেরেছি বিরিয়ানির কিছু অবাক করার মতন কথা:---

তুর্কি ও মোঘল যুগের শ্রমিকরা যে খাবার খেত সেই খাবার  ভারতের মুসলমান শাসনের শেষদিকে হয়ে উঠল রাজকীয় ভোজ।
সেই রাজকীয় খাবারটি হল বিটিয়ানি।
প্রকৃত পক্ষে যা কিনা শ্রমিক দের খাবার।-----

জখোন ব্রিটিশ সরকার লখনৌয়ের নবাবদের নবাবী কেড়ে নিয়ে তাদের নির্বাসনে রেখে তাঁদের মাসিক ভাতা দিত তখন খুবই কষ্টে দিন কাটাতেন নবাবরা।
সকল রকম আনন্দ অনুষ্ঠান,বাইজি,
সুন্দরীদের নিয়ে হারেম পরীখানা চিড়িয়াখানা ঘুড়ি ওড়ানো কবুতরবাজি,কিছুই থাকল না।

নির্বাসিত নবাব ওয়াজেদ আলী কলকাতার উপান্তে মেটিয়াবুরুজে তাঁর প্রিয় শহর বানিয়ে ফেললেন।
কিন্তু খাবার দাবার! সেটাও তো জুতসই হওয়া দরকার। সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন নবাবের বাবুর্চিরা। যাতে নবাবের মনে হয় তিনি লখনৌয়ের প্রাসাদে বসেই খাচ্ছেন।

কিন্তু নির্বাসনে আর কী করে নবাবের নবাবিত্ব থাকে !
সন্দেহ নেই ব্রিটিশরা তাঁকে প্রচুর ভাতা দিতেন। আজকের হিসেবে সেটা কয়েক লক্ষ। কিন্তু ওই মাপা টাকায় কি আর নবাবের চলতে পারে?

টান পড়তে লাগল হেঁশেলে। বিরিয়ানিতে মাংসর যোগান আর দেওয়া যাচ্ছিল না। আর মাংস দিলেও বৃদ্ধ নবাব খেতেও পারছিলেন না ঠিক করে। দুর্বল দাঁতের জন্য।

শেষে উপায় বের করলেন বাবুর্চিরাই। বিরিয়ানিতে দিলেন আলু আর ডিম। এতে খেতেও সুবিধে হল নবাবের। আর পরিমাণেও বাড়ল।

সেই শুরু। আজ তো আলু ছাড়া কলকাতার বিরিয়ানি ভাবাই যায় না। অওয়ধি বিরিয়ানির সঙ্গে কলকাতার বিরিয়ানির মূল তফাৎ হল আলু। অওয়ধি বিরিয়ানিতে আলু থাকে না।

তবে নবাবি মহলে বিরিয়ানি ভোজন অসম্পূর্ণ যদি না সঙ্গে থাকে বুরহানি। টক দই পুদিনা পাতা লঙ্কা বিট লবণআর ভাজা সর্ষের ঘোল বা রায়তা।

কলকাতায় এখনও থাকেন ওয়াজেদ আলির
কিছু বংশধর।
----------------------
বিঃদ্রঃ---((তখন কিন্তু আলু এখনকার মতো পাতি সব্জি ছিল না। এই সব্জি এসেছিল পর্তুগিজদের হাত ধরে। ভারতের মাটিতে তারাই চাষ শুরু করেছিল আলুর।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি তখনও দামি আলু আমদানি হতো পর্তুগাল থেকে।
সেই আমদানিকৃত আলুই প্রবেশ করেছিল নবাবি বিরিয়ানিতে।))
==============================

<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--2018--】
【-TIME  L=】
========================

Comments

Popular posts from this blog

497>||--আমের কথা--||---(1---4)

495>||--পান্তার ঘুম--||

496>||-বঙ্গের প্রকৃতি-||