490>||-বর্তমান সমাজ------||
490>||-বর্তমান সমাজ------||
এইতো সেদিনও লোকে দেখতো
বুক পকেটে পেন ,
কত আদরের পেন।
নামি দামি কোম্পানির পেন।
কি ছিল তার আদর।
আজকাল ওই পেনের জায়গা নিয়েছে মোবাইল কত নামি দামি কোম্পানির মোবাইল।
তখন কার দিনে গরিবদের চিঠি লেখার একমাত্র উপায় ছিল পোস্ট কার্ড।
আজকাল শত দরিদ্র হলেও হতে থাকে মোবাইল, তাতে আবার what's App,
Fb. must.
বর্তমানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের দুরন্ত হওয়া
সকল কিছুই উল্টে দিচ্ছে।
আচর, ব্যবহার, সৌজন্য বোধ,সামান্য ভদ্র আচরণ, সকল কিছুই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে।
আমেরিকার মতন দেশ আজকাল যে সম্মান প্রদর্শন করে চীন,জাপান, এমনকি ওই
নিগ্ররাও যে সম্মান দেয় বাচ্ছা ও সিনিয়র সিটিযেনদের, আমরা পারিনা সেই টুকুও দিতে।
দিন দিন আমরা হারিয়ে যাচ্ছি ওই গড্ডালিকা প্রবাহের অতল তলে।
বর্তমানে কেবল বসে দুটো সিট সিনিয়র সিটিজনদের জন্য।
এছাড়া বৃদ্ধ বয়সে আর কি পাচ্ছে বৃদ্ধরা।
আর যারা একটু বৃত্তবান তাঁদের বাবামা পাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই।
ছেলে মেয়েদের সময় কোথায় যে বাবা মাকে একটু সেবা করবে।
বৃদ্ধ বয়সে তাঁরা কি চায় দুমুঠো ভাত একটু ভালো বাসা। তাও দেবার মতন কেউ নাই।
যেসব ছেলে মেয়েদের ছোট ছেলে আছে,
সেই বাচ্চাদের দেখাশুনা করবার জন্য জখোন লোক দরকার তখন হয়তো বা ঠাকুরদা দিদিমা,দাদু ঠাকুরমার দরকার ।
তখন হয়তো দৃদ্ধরা একটু আদর পায়।
কাজের পরিবর্তে একটু খাবার এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটু আদর পায়।
সেই কারণে বর্তমান সমাজে কি করে
সম্ভব বাবার হাতের লেখা মনে রাখবে।
কিহবে ওইলেখা মনে রেখে।
তাছাড়া আজ কাল তো হাতে লেখাতো ভুলেই গেছি আমরা।
মোবাইলে শুধু টিপলাম, সিলেক্ট, ও পেস্ট করেই সব কামাল।
এটাইট জমানার কারিগরি।শুধু টেপ আর
সিলেক্ট, ও পেস্ট কর।
কিহবে বাবা মাকে দিয়ে।
যতদিন ওদের কর্ম ক্ষমতা ছিল, ততদিন আদর ছিল। কর্ম ক্ষমতা না থাকলেই ওল্ড ভেগার্ড। ওদের ভুলে যাওয়া ই বুদ্ধি মানের কাজ।খুব বেশি হলে কিছু টাকা দিয়ে দাও ওই বৃদ্ধাআশ্রমে।ব্যস সকল ঝঞ্ঝাট মুক্ত।
এটাইতো আজ আমাদের সমাজ।
এইতো কয়েকদিন আগে পুরোনো কিছু কাগজ ঘাঁটতে ঘাটতে পুরান গীতবিতান বই টার মধ্যে একটা বাবার হাতে লেখা একটা চিঠি পোস্ট কার্ড পেলাম।
বাবা তখন আসামে থাকতেন। মায়ের নামে লেখা চিঠি। হাতের লেখাটা দেখে ক্ষণিকের জন্য যেন বাবাকেই অনুভব করলাম। সেই সঙ্গে এই কথাটাও মনে হ'ল আজকালকার মোবাইলের যুগে এই হাতের লেখা কথাটা খুব অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে যেন।
আজ আমরা ক'জনই বা কার হাতের লেখা চিনি, অথবা আমাদের ছেলে মেয়েরা ই বা ক'জন তাদের বাবা মায়ের হাতের লেখা চেনে?
ছোটবেলায় সেই মুখবন্ধ করা খাম, ইনল্যাণ্ড লেটার , পোস্টকার্ড পেলেই তার ওপর হাতের লেখা দেখেই বুঝতে পারতাম কে পাঠিয়েছে এই চিঠি। মনে পড়ে দুর্গাপূজোর পর নিয়ম করে বিজয়ার চিঠির সাদান প্রদান ছিল অবশ্যকর্তব্য। পূজোর আগে বকশিস চাইতে আসত পোস্টম্যান। ( আজকাল আসে গ্যাস ডেলিভারি ম্যান, কর্পোরেশনের সুইপার,
পেপার আলা । পোস্ট ম্যান আর আসেনা)
আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা কি আর কোনওদিন লিখবে পূজনীয় বাবা, পত্রমারফত প্রথমে আমার প্রণাম নিও? এখন যন্ত্রের যুগ। মানুষ, মানবিকতা, লৌকিকতা সবই যান্ত্রিক। বিজয়ার পর এখন আর নমস্কার করতে কেউ কারও বাড়ী যায় না। কোচর ভরে আর কেউ নাড়ু, কোয়া, মুড়কি আনেন, আজকাল তো জামার কোচড়ে কিছু নেওয়াই অসভ্যতা মনে করে।
তাছাড়া আজকাল মা, ঠাকুমারাও আর নেই যাঁরা নাড়ু-মোয়া বানিয়ে রাখে না,যারা বাড়ী আসবে বিজয়া করতে তাদের জন্য।
এখন বিজয়া সম্মিলনী হয়। কিন্তু, সেখানে নাড়ু, মোয়া, দই খই কোথায়। এখন
বিরিয়ানি, কাবাব, চাউমিন, ফ্রায়েড রাইস। আর যারা মাতব্বর তাদের মদের গ্লাসে আইস কিউব চিয়ার্স বলে সম্মিলনী মানায় ।মদের নে
নেশায় ঢেকে যায় কোলাকুলি আর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম। এমনি করে আরো অনেক কিছুই আজকাল আমরা হারিয়ে ফেলেছি ভুলে গেছি কারন ওগুলি আজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
আজকাল কোন অনুষ্ঠানে যেমন বিয়ে, পৈতে তে কাউকে নেমন্ত্যন্ন করতেও কারুর বাড়ি যেতে হয় না মোবাইল ফোনে ই সেই কাজ হয়ে যায়।
দূরের কাউকে নেমন্তন্ন করতে হলে what'sApp এতে কার্ডের ফটো পাঠালেই কাজ শেষ।
ধরে কাছেও সেই একই ব্যবস্থা ফোনে বলে
দিলেই হবে, কার্ডের ছবিটা না হয় হোয়াটস্যাপে পাঠিয়ে দিলেও চলবে।
তথাপি আজকাল এখনো কিছু কার্ড ছাপাতে
হয় আর কিছু বছর পর হয়ত হারিয়ে যাবে নিমন্ত্রণের কার্ডও। ঠিক যে ভাবে আস্তে আস্তে গ্রীটিংস কার্ড হারিয়ে গেল।
আমরা আজ অনেক বেশী স্মার্ট 4G,5G, তে। কারো বাড়ী যাওয়া, চিঠি লেখা এসবের আর প্রয়োজন হয় না।
এখনো কিছু কিছু বাড়িতে লেটার Box
ঝুলতে দেখা যায় ।
যদিও ওগুলো তে ইলেকট্রিক বিল, ল্যান্ড লাইনের টেলিফোন ছাড়া আর কিছু আসে না।
এমনি করেই আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের কিছু কিছু ঐতিহ্যকে।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--11/06/2018--】
【--11:58:17==】
【 শ্যমবিহার ফেজ 2 】
【রঘুনাথপুর, কলি 59】
============================
এইতো সেদিনও লোকে দেখতো
বুক পকেটে পেন ,
কত আদরের পেন।
নামি দামি কোম্পানির পেন।
কি ছিল তার আদর।
আজকাল ওই পেনের জায়গা নিয়েছে মোবাইল কত নামি দামি কোম্পানির মোবাইল।
তখন কার দিনে গরিবদের চিঠি লেখার একমাত্র উপায় ছিল পোস্ট কার্ড।
আজকাল শত দরিদ্র হলেও হতে থাকে মোবাইল, তাতে আবার what's App,
Fb. must.
বর্তমানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের দুরন্ত হওয়া
সকল কিছুই উল্টে দিচ্ছে।
আচর, ব্যবহার, সৌজন্য বোধ,সামান্য ভদ্র আচরণ, সকল কিছুই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে।
আমেরিকার মতন দেশ আজকাল যে সম্মান প্রদর্শন করে চীন,জাপান, এমনকি ওই
নিগ্ররাও যে সম্মান দেয় বাচ্ছা ও সিনিয়র সিটিযেনদের, আমরা পারিনা সেই টুকুও দিতে।
দিন দিন আমরা হারিয়ে যাচ্ছি ওই গড্ডালিকা প্রবাহের অতল তলে।
বর্তমানে কেবল বসে দুটো সিট সিনিয়র সিটিজনদের জন্য।
এছাড়া বৃদ্ধ বয়সে আর কি পাচ্ছে বৃদ্ধরা।
আর যারা একটু বৃত্তবান তাঁদের বাবামা পাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই।
ছেলে মেয়েদের সময় কোথায় যে বাবা মাকে একটু সেবা করবে।
বৃদ্ধ বয়সে তাঁরা কি চায় দুমুঠো ভাত একটু ভালো বাসা। তাও দেবার মতন কেউ নাই।
যেসব ছেলে মেয়েদের ছোট ছেলে আছে,
সেই বাচ্চাদের দেখাশুনা করবার জন্য জখোন লোক দরকার তখন হয়তো বা ঠাকুরদা দিদিমা,দাদু ঠাকুরমার দরকার ।
তখন হয়তো দৃদ্ধরা একটু আদর পায়।
কাজের পরিবর্তে একটু খাবার এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটু আদর পায়।
সেই কারণে বর্তমান সমাজে কি করে
সম্ভব বাবার হাতের লেখা মনে রাখবে।
কিহবে ওইলেখা মনে রেখে।
তাছাড়া আজ কাল তো হাতে লেখাতো ভুলেই গেছি আমরা।
মোবাইলে শুধু টিপলাম, সিলেক্ট, ও পেস্ট করেই সব কামাল।
এটাইট জমানার কারিগরি।শুধু টেপ আর
সিলেক্ট, ও পেস্ট কর।
কিহবে বাবা মাকে দিয়ে।
যতদিন ওদের কর্ম ক্ষমতা ছিল, ততদিন আদর ছিল। কর্ম ক্ষমতা না থাকলেই ওল্ড ভেগার্ড। ওদের ভুলে যাওয়া ই বুদ্ধি মানের কাজ।খুব বেশি হলে কিছু টাকা দিয়ে দাও ওই বৃদ্ধাআশ্রমে।ব্যস সকল ঝঞ্ঝাট মুক্ত।
এটাইতো আজ আমাদের সমাজ।
এইতো কয়েকদিন আগে পুরোনো কিছু কাগজ ঘাঁটতে ঘাটতে পুরান গীতবিতান বই টার মধ্যে একটা বাবার হাতে লেখা একটা চিঠি পোস্ট কার্ড পেলাম।
বাবা তখন আসামে থাকতেন। মায়ের নামে লেখা চিঠি। হাতের লেখাটা দেখে ক্ষণিকের জন্য যেন বাবাকেই অনুভব করলাম। সেই সঙ্গে এই কথাটাও মনে হ'ল আজকালকার মোবাইলের যুগে এই হাতের লেখা কথাটা খুব অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে যেন।
আজ আমরা ক'জনই বা কার হাতের লেখা চিনি, অথবা আমাদের ছেলে মেয়েরা ই বা ক'জন তাদের বাবা মায়ের হাতের লেখা চেনে?
ছোটবেলায় সেই মুখবন্ধ করা খাম, ইনল্যাণ্ড লেটার , পোস্টকার্ড পেলেই তার ওপর হাতের লেখা দেখেই বুঝতে পারতাম কে পাঠিয়েছে এই চিঠি। মনে পড়ে দুর্গাপূজোর পর নিয়ম করে বিজয়ার চিঠির সাদান প্রদান ছিল অবশ্যকর্তব্য। পূজোর আগে বকশিস চাইতে আসত পোস্টম্যান। ( আজকাল আসে গ্যাস ডেলিভারি ম্যান, কর্পোরেশনের সুইপার,
পেপার আলা । পোস্ট ম্যান আর আসেনা)
আজ আমাদের ছেলেমেয়েরা কি আর কোনওদিন লিখবে পূজনীয় বাবা, পত্রমারফত প্রথমে আমার প্রণাম নিও? এখন যন্ত্রের যুগ। মানুষ, মানবিকতা, লৌকিকতা সবই যান্ত্রিক। বিজয়ার পর এখন আর নমস্কার করতে কেউ কারও বাড়ী যায় না। কোচর ভরে আর কেউ নাড়ু, কোয়া, মুড়কি আনেন, আজকাল তো জামার কোচড়ে কিছু নেওয়াই অসভ্যতা মনে করে।
তাছাড়া আজকাল মা, ঠাকুমারাও আর নেই যাঁরা নাড়ু-মোয়া বানিয়ে রাখে না,যারা বাড়ী আসবে বিজয়া করতে তাদের জন্য।
এখন বিজয়া সম্মিলনী হয়। কিন্তু, সেখানে নাড়ু, মোয়া, দই খই কোথায়। এখন
বিরিয়ানি, কাবাব, চাউমিন, ফ্রায়েড রাইস। আর যারা মাতব্বর তাদের মদের গ্লাসে আইস কিউব চিয়ার্স বলে সম্মিলনী মানায় ।মদের নে
নেশায় ঢেকে যায় কোলাকুলি আর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম। এমনি করে আরো অনেক কিছুই আজকাল আমরা হারিয়ে ফেলেছি ভুলে গেছি কারন ওগুলি আজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
আজকাল কোন অনুষ্ঠানে যেমন বিয়ে, পৈতে তে কাউকে নেমন্ত্যন্ন করতেও কারুর বাড়ি যেতে হয় না মোবাইল ফোনে ই সেই কাজ হয়ে যায়।
দূরের কাউকে নেমন্তন্ন করতে হলে what'sApp এতে কার্ডের ফটো পাঠালেই কাজ শেষ।
ধরে কাছেও সেই একই ব্যবস্থা ফোনে বলে
দিলেই হবে, কার্ডের ছবিটা না হয় হোয়াটস্যাপে পাঠিয়ে দিলেও চলবে।
তথাপি আজকাল এখনো কিছু কার্ড ছাপাতে
হয় আর কিছু বছর পর হয়ত হারিয়ে যাবে নিমন্ত্রণের কার্ডও। ঠিক যে ভাবে আস্তে আস্তে গ্রীটিংস কার্ড হারিয়ে গেল।
আমরা আজ অনেক বেশী স্মার্ট 4G,5G, তে। কারো বাড়ী যাওয়া, চিঠি লেখা এসবের আর প্রয়োজন হয় না।
এখনো কিছু কিছু বাড়িতে লেটার Box
ঝুলতে দেখা যায় ।
যদিও ওগুলো তে ইলেকট্রিক বিল, ল্যান্ড লাইনের টেলিফোন ছাড়া আর কিছু আসে না।
এমনি করেই আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের কিছু কিছু ঐতিহ্যকে।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--11/06/2018--】
【--11:58:17==】
【 শ্যমবিহার ফেজ 2 】
【রঘুনাথপুর, কলি 59】
============================
Comments
Post a Comment